রয়্যালবেঙ্গলের মুখ থেকে সঙ্গীকে ছিনিয়ে আনলো মতস্যজীবীরা - The News Lion

রয়্যালবেঙ্গলের মুখ থেকে সঙ্গীকে ছিনিয়ে আনলো মতস্যজীবীরা




দি নিউজ লায়ন ;  সুন্দরবনের জঙ্গলে মতস্যজীবীদের সঙ্গে রয়্যাল বেঙ্গলের লড়াই! বাঘের মুখ থেকে সঙ্গী মতস্যজীবীকে ছিনিয়ে নিল 5 ধীবর। ঘটনাস্থল কলস দ্বীপের জঙ্গল। নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে ফেরা মতস্যজীবীর নাম তাপস মণ্ডল। ঘাড়ে পিঠে মারাত্মক ক্ষত থাকলেও তার অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল বলে জানা গিয়েছে। 


স্থানীয় সূত্রে খবর, গত বুধবার সুন্দরবনের জঙ্গলের কাঁকড়া ধরতে যায় তাপস মণ্ডল সহ ৬ মতস্যজীবীর দল। তাদের প্রত্যেকেরই বাড়ি কুলতলির দেউলবাড়ি-দেবীপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। শুক্রবার বিকেলে কাঁকড়া ধরার পর জ্বালানি সংগ্রহের জন্য কলস দ্বীপের কাছে একটি জঙ্গলে নৌকা থেকে নামে তারা। আচমকা জঙ্গল থেকে একটি বাঘ বেরিয়ে এসে তাপস মণ্ডলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।


 কিছু বুঝে ওঠার আগেই তার ঘাড় এবং পিঠে কামড় বসিয়ে দেয়। বাঘ তাকে টেনে জঙ্গলের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। প্রাথমিক বিস্ময় কাটিয়ে বাকি মতস্যজীবীরা পাল্টা প্রতিরোধ করে। হাতের কাছে থাকা লাঠি বৈঠা নিয়ে তারাও ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঘের ওপর। বাঘ মতস্যজীবীকে টেনে নিয়ে যায় এটাই দস্তুর কিন্তু মতস্যজীবীরা পাল্টা যে বাঘকে বৈঠা পেটা করবে তা বুঝতে পারেনি রয়েল বেঙ্গল। অতর্কিতে মরিয়া হামলায় হতভম্ব হয়ে পড়ে বাঘ। শিকার ফেলে পালিয়ে যায় জঙ্গলে। প্রায় আধঘন্টা ধরে চলে সুন্দরবনের জঙ্গলে বাঘে-মানুষে  লড়াই। 


শেষ পর্যন্ত অবশ্য যুদ্ধে যেতে মতস্যজীবীরা।নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে ফেরে তাদের সঙ্গী। গুরুতর জখম অবস্থায় তাপসকে হাসপাতালে নিয়ে যায় তারা। সেখানে চিকিতসা করা হয় তার। আপাতত তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন চিকিতসকেরা। ধীবরদের দলে থাকা তপন পিয়াদা বলেন,'যখন আমরা নৌকা থেকে নেমে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করার জন্য যাচ্ছিলাম তখনই বাঘটি  একলা পেয়ে তাপসের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং ওকে ধরে নিয়ে জঙ্গলে নিয়ে যাওয়ার  চেষ্টা করতে থাকে।


আমরা সবাই মিলে বাধা দেওয়ায় বাঘটি ভয় পেয়ে ওকে ছেড়ে দিয়ে পালিয়ে যায়।এরপর আমরা উদ্ধার করে চিকিতসার জন্য নিয়ে চলে আসি হাসপাতালে।' প্রসঙ্গত শুক্রবার বাঘের হামলায় ঝিলার জঙ্গলে এক মতস্যজীবীর মৃত্যু হয়। মতস্যজীবীদের সেই দলে থাকা এক ধীবর জানিয়েছে, তারাও পাল্টা প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু সেটা করতে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। 


ততক্ষণে বাঘ তাদের সঙ্গীকে অনেক দূর অব্দি টেনে নিয়ে চলে গিয়েছিল তাই শেষ রক্ষা করা যায়নি। মতস্যজীবীদের দাবি, সুন্দরবনের জঙ্গল যারা চেনে যারা অভিজ্ঞ তারা বিপদে পড়লেও বাঘের হাত থেকে কিভাবে নিজেকে এবং সঙ্গী-সাথীদের রক্ষা করতে হয় তার কৌশল জানে। ঠিক যেমন কলস দ্বীপের জঙ্গলে শুক্রবার ঘটে। বাঘের মুখ থেকে সঙ্গীকে ছিনিয়ে আনা সম্ভব হয় কিন্তু অনভিজ্ঞ মতস্যজীবী হলে একবার বাঘ হামলা করলে আর রক্ষা পাওয়ার উপায় থাকে না।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.